গল্পঃ শান্তিবিলাসি ঢ্যাড়শ
মন খুলে হাসলে শরীর মন ভালো থাকে কিন্তু 😁
হাসির গল্পঃ -
~~~~~~~
"শান্তিবিলাসে ঢ্যাড়স "
প্রদীপ দে
বাড়িটার নাম শান্তিবিলাস তবে লোকে বলে ভ্রান্তিবিলাস। গৃহকর্তা হলেন সাহস রায় ,মিচকে লোকে ডাকে ঢ্যাড়স রায়।কারণ তিনি পিসিমার ভয়ে সিটকে থাকেন আর সব কিছু গুলিয়ে ফেলেন...খাওয়ার কথা ছাড়া। খেতে তিনি বড় ভালোই বাসেন।লুকিয়ে চুরিয়ে কিছুটা ম্যানেজ করেন ,কারণ পিসির চোখ ঘোরে সর্বত্র।
শান্তি পিসি ভোরবেলা কান ধরে তুলে দেয় - বয়স যদিও তার কম নয়- পঞ্চাশ পেরিয়ে। সাহস রায় বাড়ির মালিক তবে তার ক্ষমতা পিসির কাছে নস্যি। আসল কথা সাহসবাবু চিরকালের বেকার। ছোটবেলায় ফাঁকি মারার ফলে না জোটাতে পেরেছে কোনো কাজ, না পেয়েছে কোনো রোজগার! উত্তরাধিকার সুত্রে বাপের বাড়ি পেয়ে গেছে। পিসি অবশ্যই তার গার্জেন বাপের নির্দেশেই।
পিসির দেওর গুনধর জ্যোতিষী পিসিকে বুদ্ধি দেয় -- ভাইপোর বিয়ে দিয়ে দাও তাড়াতাড়ি, দেখবে ও বউয়ের মুখ দেখলেই রোজগার করবে।
পিসি , অকাল বিধবা, মৃত স্বামীর পেনশনে বেশ ভালভাবে চলা জীবনে, এই উপদেশ খুব ভালবেসেই গ্রহন করে , তার উপর দেওর গুনধরের সংগে তার একটু 'মাখামাখি' সম্পর্ক , তার কথা ফেলা তো দুরের কথা ,তা হয় বেদবাক্য।
হয়ে গেল বিয়ে। সাহস বাবু আয়েস করে নতুন বউ নিয়ে উপভোগ করতে শুরু করলো। তিনমাস হতে না হতেই নতুন বউ- হামির বমি শুরু হয়ে গেল। পিসি দেখলেন এযে উল্টো কেস্। পিসিও কম চালাক নয়, গুনধরকে ডেকে বউমা হামিকে নিয়ে সোজা নার্সিংহোমে ছুটলেন - খালাস করাতে, যাবার সময় সাহসের কান মুলে বললেন -- আগে রোজগার করো ,তারপর বাবা হবে, বুঝলে?
সাহসও পিছু নিল। নার্সিংহোমে গিয়ে জানা গেল ওসব কিছু নয় বউমার হজমের রোগ - হজমের গুলি দিয়ে তাদের খালাস দিল।
তারপর থেকে সাহস রায় মিচকে প্রতিবেশীদের কাছে ঢ্যাড়শ রায় নামেই ততোধিক প্রচারিত। এরপর সারাজীবনে ও আর সন্তানের মুখ দেখা হয়নি তার। পিসি জানে তার ভয়েই এই সাফল্য, আর বউ হামি জানে আসল কথাটা -- তার সোওয়ামীর পুরুষত্বহীনতা।
সাহস রায় তো তাতেও বেজায় খুশি। আনন্দে মশগুল, আমআদমী কি বলল তাতে তার কি যায় আসে। বাজার করে দুহাতে থলে নিয়ে ফেরার পথে যখন মিচকেরা সবাই আক্রমণ করে -- ও ঢ্যাড়সদা সব নিয়েছো? আমরা আসছি। বৌদির কাছেই খাবো।
ঢ্যাড়স নামে যেমন, কাজেও তেমন। কিছুই যেন বোঝে না, হেসে গলে পড়ে -- হ্যাঁ, হ্যাঁ, এসো ভাইয়েরা। আমার বউ তো তোমাদের কথা কত বলে। তোমরা নাকি খুব ভাল।
ওদিকে বাজার দেখে আবার পিসির মুখ ভার হয়ে যায়,--এসব কি এনেছিস? তোর কি চোখ দুটোও নেই --সব পচা জিনিস গুলো তুলে এনেছিস? আর বেল কোথায়? আলো গুলোর চেহারা তোর আলুর থেকেও খারাপ। হায়! হায়! আমার কপাল। একটা ভাইপোও মানুষ হলো না? কোনো কর্ম্মের নয় দেখছি!
নিজের গিন্নি হামি আবার পিসি শান্তিদেবীকেই তেল মারে -- আবার পাঠান ওকে --।
স্বামী সাহসকে আসামীর মত চোখ রাঙায়, --গুছিয়ে আনতেও পারো না ? কোন কাজটা পারো তুমি?
আবার ছুটতে হয় বাজারে। ফিরে এসে মুদীর দোকান। তারপর ওষুধের দোকান হয়ে সকালের কেনাকাটা আপাততঃ স্থগিত হয়।
বাথরুমে ঢুকিয়ে দেয় গিন্নি। দেখে সাবান জলে ভেজনো পিসি আর বউয়ের শায়া ,ব্লাউজ ,শাড়ি ব্রা সব ধোওয়ার জন্য তার অপেক্ষা করে করে একেবারে ফেনিয়ে উঠেছে। ব্রাশ নিয়ে সব পরিস্কারকরণে লেগে পরে। অন্যথায় দাগ থাকলে পিসি তাকেই দাগিয়ে দেবে। পরে বাড়ির সব কাজ করতে হয়। আনাজ কেটে -কুটে -ধুয়ে দিতে হয়। দু মুঠো গিলে আবার বাসন মাজা।
এতকিছু করার পর পিসিমার চোখ এড়িয়ে যদিবা সাহস তার বউয়ের ঘরে ঢোকে, বৌয়ের একটু কাছে ঘেঁষতে চেষ্টা করে, তখনই যুবতী বউ হামি হাউমাউ করে চেঁচামেচি করে পিসির নজরে দেয় ঘটনাটা, সঙ্গে তাকে ভেঙচি কেটে গায়ের জ্বালা মেটায়, -- আসল কাজ তো করার মুরোদ নেই।
চেঁচামেচি শুনে পিসি দৌড়ে এসে ঢ্যাড়সের কান ধরে টেনে নিয়ে যায় নিজের ঘরে, মুখভর্তি পান চিবাতে - চিবাতে হুকুম চালায় -- নে নে আমার পা দুটো ভাল করে টিপে দে, যা ব্যাথা হয়েছে, জানিস না আজ একাদশী?
---------------------
Labels: সাহিত্যপত্র



0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home