Wednesday, 30 June 2021

উপহার

প্রাপ্তিঃ
নতুন সূর্য গ্রুপ -থেকে ~ ছোটগল্প প্রকাশিতঃ
🌶🍋🌶🍋🌶🍋🌶🍋🌶🍋🌶🍋🌶

আনন্দ সংবাদ
                       ....................
আগামী  রথযাত্রার শুভলগ্নে আমাদের যে পরবর্তী সংখ্যাটি আসছে আজ তারই মনোনীত সূচিপত্র খুশীর সাথে " নতুন সূর্য পত্রিকা গোষ্ঠী  "  আজ প্রকাশ করতে চলেছে। 

সকল পাঠক-পাঠিকা ও অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।

আমাদের চলার পথটি দুর্গম হলেও যে দুঃসহ নয়, তার কারণ আপনাদের সহৃদয়তার উষ্ণতা। এটাইতো আমাদের সবার জন্য এক আন্তরিক নিশান।

আগামী দিনগুলি আনন্দময় হোক!

- ইতি
II নতুন সূর্য পত্রিকা পরিবার II

৩০শে জুন, ২০২১

Labels:

ছড়া - হতচ্ছাড়া ভাগ্না

ছড়াঃ
  "হতচ্ছাড়া ভাগ্না"
         প্রদীপ দে ~

মামা আমার একটু মোটাই
আমি কিন্তুু নয়
মামার আছে অনেক টাকা 
আমার আবার পকেট ফাঁকা
মনে ছিলো বিরাট ভয় !
যদি মামার অসুখ হয় ?
আবার আশাও ছিলো বেশ
টাকা পয়সা আমিই পাবো
মনের মতো খাবার খাবো
মিলেও গেলো তা শেষমেষ।।

বলে গেলো ডাক্তার 
সময় নেইতো আর
মামা তোমার মরবে এবার
হরিনাম জুড়লো মামা
বিছানায় শুতে শুতে।
সত্যি মৃত্যু হলো মামার
মরলো শেষে হেগে মুতে।।

ভালোই হলো এইটা ভেবে
সব কিছুই আমার হবে

হঠাৎ এক "ঢেপসি " এসে হাজির
বললো আমিই তোমার "মামী"
তোমার মামাই আমার "স্বামী"
বললে অনেক , করলো জাহির্।।

শাগরেদ রা সব এলো
দখল করে নিলো
আমি হলাম একাই
পকেট থাকলো ফাঁকাই।।

আমার চক্ষু ছানাবড়া ,
আমি ভাগ্না "হতচ্ছাড়া "!!

#অমাদীপ_প্রদীপদে

Labels:

উবাচ

Labels:

পত্রিকায় প্রকাশ

Labels:

Tuesday, 29 June 2021

গল্পঃ উষারাজ

#ছোটগল্পঃ
^^^^^^^^
" দেখো কি হয়! "
  পেটে খেলে পিঠে সয়! "
                    প্রদীপ দে ~

বাইরে ভিতরে আগুনের ঝলসানো তাপ জামা প্যান্টুলুন ভিজিয়ে দিচ্ছে। টিনের চালা,কিন্তু পাকা আট বাই আট ঘর, তিনটে বেঞ্চ,আর এক চারপায়া ফেলে দেওয়া টেবিল, কুড়িয়ে আনা,যার এক‌টি পা আবার নড়বড়ে। সাবধানে কাজ সারতে হয়, চাপ পড়লে ক্যাচ -ক্যাচ শব্দে নুইয়ে পড়ে। আমি কায়দাটা জানি, রপ্ত করেছি বহুদিনের অভ্যাসে। এরই পিছনে লাগোয়া আর একটা এরকমই ঘর, সেখানে আমার নিঃসঙ্গ জীবনের শয়ন -তক্তা পাতা, যার পাশে পেটের দায়ে সামান্য ফুঁটিয়ে নেওয়ার কিছু সাজ -সরঞ্জাম। সামনে মাটি কাদা ঘাসে উঠোন আর পিছনে আমার " ইয়ে" মানে পরিস্কার হওয়ার পুরো টিনে ঢাকা চার বাই চার ঘর। এই আমার বাড়ি। 

সামনের ঘরে আমি লেকচার দিই। না , না, আমি প্রফেসর নই আমি লোককে জনান দিই যাকে বলে উপদেশ দান। অনেকেই আসে, কারণ অবশ্যই আছে, কথায় আছে না -"পেটে দিলে পিঠে সয়!"

আজ সন্ধায় সবাই আসবে।সভা ডেকেছি। আমি আগে কিছু বলবো, তারপর আমার কথার রেশ ধরে অন্যরাও কিছু বলবে। ভাঙ্গা টেবিলে আর তিনটি বেঞ্চে জনা বিশেক লোক হয়ে যাবে নিশ্চয়ই।

" ধৈর্য্যের ফল" - এই বিষয়ে পড়াশুনা করে তৈরী করেছিলাম নিজেকে। উগড়ে দিলাম সন্ধ্যাবেলায়, মাঝে পরিবেশিত হলো পাড়ার দোকেনের ভাজা গরমাগরম সিঙগারা আর লিকার চা। আমরা ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারিনা। তাতে ফল হয় মারাত্মক, হাতেনাতে ফল পেয়ে যাই। পরে আফসোস করি - হায় হায়! ধৈর্য্য রাখতেই হবে, উপমা,উদাহর‌ণের বন্যা বইয়ে দিলাম। আবার একবার লিকার, বোর্ডের তৈরী করা ছোট্ট কাপে। খেল খতম! মার দিয়া কেল্লা!

সবাই আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ! প্রত্যেকেই ভাষণ দিয়ে কৃতার্থ করলো,আমার ছোট্ট ঘরে উঠোনে শব্দসমূহ বাক্য হয়ে খেলা করতে লাগলো, পাশের প্রতিবেশীদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে আনন্দবর্ধন পূর্বক আমাকে রোমাঞ্চিত ও পুলকিত করে  তুললো।

পাড়ার বৃদ্ধ মাষ্টার মশাই শুধু কোনও উত্তর দেননি, উনি খুব কম কথা বলেন, আজীবন শুধুই শোনেন।
কি করে স্কুলে মাষ্টার গিরি করে ছিলেন - ভগবানই জানেন!

ওনাকে বারবার কিছু বলতে অনুরোধ করা হলে , উনি যাবার সময় শান্ত গলায় জানালেন - 
" দেখো কি হয়, পেটে খেলে পিঠে সয়!"
--------------------
#অমাদীপ_প্রদীপদে®™…

Labels:

গল্পঃ পেটে খেলে পিঠে সয়

#ছোটগল্পঃ
^^^^^^^^
" দেখো কি হয়! "
  পেটে খেলে পিঠে সয়! "
                    প্রদীপ দে ~

বাইরে ভিতরে আগুনের ঝলসানো তাপ জামা প্যান্টুলুন ভিজিয়ে দিচ্ছে। টিনের চালা,কিন্তু পাকা আট বাই আট ঘর, তিনটে বেঞ্চ,আর এক চারপায়া ফেলে দেওয়া টেবিল, কুড়িয়ে আনা,যার এক‌টি পা আবার নড়বড়ে। সাবধানে কাজ সারতে হয়, চাপ পড়লে ক্যাচ -ক্যাচ শব্দে নুইয়ে পড়ে। আমি কায়দাটা জানি, রপ্ত করেছি বহুদিনের অভ্যাসে। এরই পিছনে লাগোয়া আর একটা এরকমই ঘর, সেখানে আমার নিঃসঙ্গ জীবনের শয়ন -তক্তা পাতা, যার পাশে পেটের দায়ে সামান্য ফুঁটিয়ে নেওয়ার কিছু সাজ -সরঞ্জাম। সামনে মাটি কাদা ঘাসে উঠোন আর পিছনে আমার " ইয়ে" মানে পরিস্কার হওয়ার পুরো টিনে ঢাকা চার বাই চার ঘর। এই আমার বাড়ি। 

সামনের ঘরে আমি লেকচার দিই। না , না, আমি প্রফেসর নই আমি লোককে জনান দিই যাকে বলে উপদেশ দান। অনেকেই আসে, কারণ অবশ্যই আছে, কথায় আছে না -"পেটে দিলে পিঠে সয়!"

আজ সন্ধায় সবাই আসবে।সভা ডেকেছি। আমি আগে কিছু বলবো, তারপর আমার কথার রেশ ধরে অন্যরাও কিছু বলবে। ভাঙ্গা টেবিলে আর তিনটি বেঞ্চে জনা বিশেক লোক হয়ে যাবে নিশ্চয়ই।

" ধৈর্য্যের ফল" - এই বিষয়ে পড়াশুনা করে তৈরী করেছিলাম নিজেকে। উগড়ে দিলাম সন্ধ্যাবেলায়, মাঝে পরিবেশিত হলো পাড়ার দোকেনের ভাজা গরমাগরম সিঙগারা আর লিকার চা। আমরা ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারিনা। তাতে ফল হয় মারাত্মক, হাতেনাতে ফল পেয়ে যাই। পরে আফসোস করি - হায় হায়! ধৈর্য্য রাখতেই হবে, উপমা,উদাহর‌ণের বন্যা বইয়ে দিলাম। আবার একবার লিকার, বোর্ডের তৈরী করা ছোট্ট কাপে। খেল খতম! মার দিয়া কেল্লা!

সবাই আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ! প্রত্যেকেই ভাষণ দিয়ে কৃতার্থ করলো,আমার ছোট্ট ঘরে উঠোনে শব্দসমূহ বাক্য হয়ে খেলা করতে লাগলো, পাশের প্রতিবেশীদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে আনন্দবর্ধন পূর্বক আমাকে রোমাঞ্চিত ও পুলকিত করে  তুললো।

পাড়ার বৃদ্ধ মাষ্টার মশাই শুধু কোনও উত্তর দেননি, উনি খুব কম কথা বলেন, আজীবন শুধুই শোনেন।
কি করে স্কুলে মাষ্টার গিরি করে ছিলেন - ভগবানই জানেন!

ওনাকে বারবার কিছু বলতে অনুরোধ করা হলে , উনি যাবার সময় শান্ত গলায় জানালেন - 
" দেখো কি হয়, পেটে খেলে পিঠে সয়!"
--------------------
#অমাদীপ_প্রদীপদে®™…

Labels:

খেলে মদ করোনা বধ

#রম্যগল্পিকাঃ
" খেলে মদ-করোনা বধ "
                   প্রদীপ দে ~

মলয় হাসে, প্রলয় নাচে
মদের ঠেকে, বাড়ির নীচে।
দুজনায় ভরপেটে একেবারে চুর
ঘরময় সুবাস তায় মৌতাতে ভরপুর। 
মদ খেয়ে কেউ মাতাল হয়? ফালতু কথা-ধুৎ!
যত বাজে লোকের গুলতানি, খালি ধরে খুঁত!
মদের সাথে চাই খালি ভারী চাট্ 
তবে না থাকবে বজায় ঠাটবাট?
সিগারেটের গুলিয়ে ওঠা ধোঁয়া
নেশাখোরের টানে হবে কয়েক পেগ হাওয়া। 

খবর পেয়ে দুই গিন্নি আসে ছুটে
চিৎকারে তাদের ঘুম যে যায় টুটে …
এসেই বেজায় জোরে ধরে দুজনের চুলের মুটি
পাছায় মারে, আর মারে, বার কয়েক লাথি!
"থামো থামো- ওমা! এসব করো কি- করো কি?
স্বামীদের মারছো দেখি- একি একি ?
আমরা যে তোদের গুরুর গুরু
বিয়ের দিন থেকেই যার শুরু"।
হয় না তাদের কথা বলা শেষ
চোখ বুঝে যায়,দেখে কালী রণমূর্ত্তির বেশ
প্যাদানী খেয়ে শুয়ে শুয়ে গোঙরায় হসপিটালে
তারা সাফাই যে গায় -করোনা যাওয়ার প্রাক্কালে
"পেট ভরে ভাই যদি পিতে পারো, তবে পিও মদ
তবে হবেই হবে জেনো, মদ-দেহে এই করোনা বধ" !
---------------------------------
#অমাদীপ_প্রদীপদে

Labels:

উবাচ আমার

Labels:

Monday, 28 June 2021

কবিতাঃ প্রেয়সী

আমি তোমার অতলে
পড়ে থাকা এক মন
অন্তস্তল গভীরতার ফলে
তোমার ভয়ঙ্কর টান
আমার কাছে অচেনাই …
শুনি শত ঢেউ তোমার
কত প্রেমীকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে
করে খেলা
যা রয় মোর অজানাই …
তোমার এক সমুদ্র বুকে ……
কেবল নিস্তব্ধতা আর অবহেলা 
আমার বেলা…
শুধুই বাকি পড়ে থাকে  ……

প্রেয়সী হয়েই থাকি
গুমরিয়ে মুখ বুঁজে-বুঁজে 
সমুদ্রের অতলে ফিরি
তোমার ভালোবাসা খুঁজে-খুঁজে!

"সমুদ্র প্রেয়সী"
#অমাদীপ_প্রদীপদে

Labels:

কলমেঃ

Labels:

গল্পঃ ঠান্ডা ভয়

ভৌতিক গল্পঃ
  "  ঠান্ডা ভয় "
        ✍ প্রদীপ দে
        ২৭:০৬:২০২১
~~~~~~~~~~~

-- হ্যালো --
-- হ্যালো, হ্যাঁ  কে বলছেন?
-- ওঃ সুখময় বলছো
-- হ্যাঁ, হ্যাঁ,সুখময়ই বলছি --
-- আরে, আমি সাহস রায় বলছি --
-- ওঃ ওঃ দাদা আপনি? গলাটা চেনা লাগছে, তবে আমার কাছে আপনার নম্বরটা সেভ করা নেই, তাই বুঝতে পারি নি।
--  ওঃ আচ্ছা, কোনো ব্যাপার নয়। অনেকদিন তোমায় আর বাইরে দেখতেও তো পাই না।
-- হ্যাঁ, হ্যাঁ। আমি এখন খুব কম বেড় হই। কাজ ও তেমন আর করি না।
-- সে কি? এতো ভালো কাজের লোক?  আমি যে তোমায় কাজের জন্যই ফোন করেছিলাম। আমার কাজটা যে তোমায় করে দিতেই হবে।অন্য কাউকে দিয়ে আমি করাবো না - তুমি ছাড়া এই কাজ কেউ করলে মেশিন বিগড়ে দেবে।
--  আরে দাদা কি যে বলেন?  কতো ভালো ভালো মেকানিক্স রয়েছে। আপনি আমায় স্নেহ করেন তাই। যাহোক আমি যাবো, এখন কি হয়েছে বলুন,  তাই একটিবার শুনি।
-- এসি মেশিনটা বিগড়েছে , গরম হাওয়া বেড়োচ্ছে। তুমি যে সেই শেষ গতবছর সার্ভিসিং করে দিয়েছিলে তারপর আমি রিটেয়ার করলাম, একে পয়সার অভাব অন্যদিকে করোনার প্রভাব দুয়ে মিলে আমি কাত,  তাই হে ভায়া, আমার আর একবছরে কিছু করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি, তোমাকেও ডাকতে পারি নি। কিছু মনে করো না।
--  না না ওতে কি আছে? সেটা আরকি?  যাক আমি কাল সকালেই যাবো, দেখে দেবো। কোনো চিন্তা করবেন না।
-- ঠিক। তুমি কখন আসবে?
-- ওই ন টার মধ্যেই।
-- ব্যাস। আর কোন চিন্তা নেই তুমি হাত দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তাহলে একবার এসো কিন্তূ ভাই সুখময়।
-- আর কোন চিন্তা নেই সাহস বাবু, চুপ করে ঘুমান, আমায় যখন ডেকেছেন, তখন ধরুন আপনার মেশিন ঠিকই হয়ে গেছে --আর গরম নয় এবার শুধুই ঠান্ডা হাওয়া বেড়োবে ।
-- আচ্ছা, তাহলে ছাড়ি, ভালো থেকো
-- হ্যাঁ, হ্যাঁ  বাই!
লাইন কেটে দিলাম।

পরের দিন সক্কাল সক্কাল উঠে সব কাজ গুছিয়ে, স্নান সেরে,আহ্নিক করে রেডি হয়ে গেলাম, মিস্ত্রি আসলে অনেক ঝক্কিঝামেলা, এটা দাও ওটা দাও হাতে -হাতে আবার থাকতেও হবে সাথে সাথে। আর কাজটা বেশ ঝামেলার হবে আমি জানি। কারণ মেশিনের কন্ডেন্সর খারাপ হয়ে গেছে, বলে গেছে পাড়ার বিপুল নামের এক মিস্ত্রি।গ্যাস ও নেই, ভর্তি করতে হবে। অনেক টাকার ব্যাপার, প্রায় দশ হাজারের ওপর। মিস্ত্রিটাকে ভাগিয়ে দিয়েছি, পরে করবো বলে। আসলে চেষ্টা চালাচ্ছিলাম অন্যত্র যাচাই করে যদি কমে হয়। এসব কথা সুখময় কে বলিনি, ওকে বলার দরকারই বা কি? যাচাই করেই কাজ করাতে হয় সব কথা সবাইকে জানাতে নেই।

নটা, দশটা করে সূর্যিমামা মাথায় চড়ে বসলেন, কিন্তু সুখময় এলো না। ঘরদোর বার এক করে গেলাম এই আসে ওই আসে করে সে আর এলো না। ভাবলাম আটকে গেছে।  ফোন করবে বা বিকালে আসবে। বিকালে না আসায় আমিই ফোন লাগালাম । অবাক কান্ড পাঁচবার ফোন করেও ধরলো না। চিন্তায় পড়ে গেলাম। কেন আসলো না?  কম পয়সায় কাজটা করিয়ে নেওয়া যেতো।রাতে ফোন মারলাম তো ধরলো ,ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো।
--    হ্যাঁ, সাহসদা আজ আমি একটু অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম, ফোনেও চার্জ ছিলো না তাই করতে পারিনি। কোনো চিন্তা করছেন না,কাল সকালবেলাতেই আপনার ওখানে যাবো।
মনতা শান্তিতে ভরে গেলো।

পরের দিন ও শেষ হয়ে গেল। সুখময় সুখ দিলো না, তার মুখ দেখিয়ে। বিকালে চিন্তা করছি কি হলো ব্যাপারখানা? ও যদি নাই আসতে চায় তাহলে ওর ফোন করার দরকার হতো না। আর ওর গলার ভয়েস বলে দিচ্ছে ও আসতে ইচ্ছা করছে। গিন্নীর সঙ্গে আলোচনা করলাম। ও সন্দেহ করতে শুরু করে দিয়েছে। 

রাতে আবার যথারীতি সুখময়ের ফোন এলো - মাফ করুন -- কিছুতেই সময় পাই নি আজ। কাল অবশ্যই যাবো।

গিন্নীই বুদ্ধি দিলো --ওকে সময় দিও না। কাল সকাল বেলায় চলো আমরা ওর বাড়ি চলে যাই, ও কাজে বেড়োবার আগেই ওকে ধরে ফেলি। ও মনে হয় খুব ব্যস্ত।

একদম ঠিক কথা। দুজনেই চা খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। তখন সাতটা হবে। ওর বাড়িতে গিয়ে দরজায় আঘাত করলাম -- সুখময়, সুখময় আছো নাকি?

খচমচ করে মরচে ধরে কব্জার আওয়াজ করে দরজা খুলে গেলো। সামনে এলো ওর মা। বহুদিন পরে দেখছি, কেমন যেন বিব্রত লাগলো দেখতে। ওনার পক্ষে চেনা সম্ভব ছিলো না। আমিই বললাম -- ভালো আছেন মাসিমা? সুখময়ের সংগে একটু দরকার ছিলো। ও বাড়িতে আছে তো?

নিমেষে মহিলার চোখ দুটি বড় হয়ে উঠলো, করুণ ভাবের উদ্বেগ লক্ষ্য করলাম ওনার চোখেমুখে। চোখ মুছলেন আঁচল দিয়ে। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। কি করবো ভেবে উঠতে পারলাম না।

এবার আমার গিন্নিই বলে ফেললো -- কি হয়েছে মাসিমা?  কোন কষ্ট হচ্ছে?

মাসিমা কোন উত্তর দিলেন না, ইশারায় ভিতরে ডাকলেন, আমরা ওনাকে অনুসরণ করে ভিতরে গেলাম। অবিনস্ত ঘর, যেন বহুদিন অব্যবহৃত হয়ে রয়েছে। উনি দেওয়ালে টাঙানো ছবির দিকে আঙুল তুললেন, অবাক চোখে ধাক্কা খেলাম , বুঝতে অসুবিধা হলো না -- সুখময় ছবি হয়ে গেছে!

মাসিমাকে স্বান্তনা দেওয়ার ভাষা পাইনি। তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে এলাম। গিন্নি আমায় দেখে- তো আমি গিন্নিকে।  তাহলে এতদিন ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছিলাম?  আর ও আসবে আসবে কেন বলছিলো? ভয় পেতে শুরু করলাম। হাত পা যেন আঁটকে গেলো পথে। এখন কি করবো? আর জলজ্যান্ত ছেলেটা মরে গেল?

গিন্নির কথা মত সব ভুলে তক্ষনাৎ আমাদের আগের বিপুল মিস্ত্রীর কাছেই গেলাম। ও দোকান খুলে বসেইছিলো ,আমরা বলতেই আমাদের সঙ্গে আমাদের বাড়ি চলে এল। টাকার ব্যাপারখানা একইরকম আগের মতোই। ও আগেই রেট দিয়েছিল।

বাড়ি এসে যথারীতি কাজ শুরু হলো। ছাদের বক্স খুলতেই। অবাক কাণ্ড! মেশিনে নতুন কন্ডেন্সার লাগানো। মিস্ত্রি তো রেগে লাল -- ন্যাকাপনা করছেন? অন্যকে দিয়ে মেশিন সারিয়ে আমার সাথে চালাকি করছেন?

ওকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা চালালাম। ও কি বুজলো জানিনা, কিন্তু পাঁচশো টাকা ওর হাতে গুঁজে দিতেই ও ভিজে বেড়াল হয়ে চুপসে গেল।
নিচে এসে সব বন্ধ করে এসির সুইচ দিতেই ঠান্ডা হাওয়ায় মন -প্রান সব জুঁড়ে গেল !
--------------------------
সমাপ্ত।
#অমাদীপ_প্রদীপদে

Labels:

গল্পঃ শান্তিবিলাসি ঢ্যাড়শ

মন খুলে হাসলে শরীর মন ভালো থাকে কিন্তু 😁
হাসির গল্পঃ -
~~~~~~~
    "শান্তিবিলাসে ঢ্যাড়স "
                      প্রদীপ দে
         
বাড়িটার নাম শান্তিবিলাস তবে লোকে বলে ভ্রান্তিবিলাস। গৃহকর্তা হলেন সাহস রায় ,মিচকে লোকে ডাকে ঢ্যাড়স রায়।কারণ তিনি পিসিমার ভয়ে সিটকে থাকেন আর সব কিছু গুলিয়ে ফেলেন...খাওয়ার কথা ছাড়া। খেতে তিনি বড় ভালোই বাসেন।লুকিয়ে চুরিয়ে কিছুটা ম্যানেজ করেন ,কারণ পিসির চোখ ঘোরে সর্বত্র।

শান্তি পিসি ভোরবেলা কান ধরে তুলে দেয় - বয়স যদিও তার কম নয়- পঞ্চাশ পেরিয়ে। সাহস রায় বাড়ির মালিক তবে তার ক্ষমতা পিসির কাছে নস্যি। আসল কথা সাহসবাবু চিরকালের বেকার। ছোটবেলায় ফাঁকি মারার ফলে না জোটাতে পেরেছে কোনো কাজ, না পেয়েছে কোনো রোজগার! উত্তরাধিকার সুত্রে বাপের বাড়ি পেয়ে গেছে। পিসি অবশ্যই তার গার্জেন বাপের নির্দেশেই।

 পিসির দেওর গুনধর জ্যোতিষী পিসিকে বুদ্ধি দেয় -- ভাইপোর বিয়ে দিয়ে দাও তাড়াতাড়ি, দেখবে ও বউয়ের মুখ দেখলেই রোজগার করবে।

পিসি , অকাল বিধবা, মৃত স্বামীর পেনশনে বেশ ভালভাবে চলা জীবনে, এই উপদেশ খুব ভালবেসেই গ্রহন করে , তার উপর দেওর গুনধরের সংগে তার একটু  'মাখামাখি' সম্পর্ক , তার কথা ফেলা তো দুরের কথা ,তা হয় বেদবাক্য। 

হয়ে গেল বিয়ে। সাহস বাবু আয়েস করে নতুন বউ নিয়ে উপভোগ করতে শুরু করলো। তিনমাস হতে না হতেই নতুন বউ- হামির বমি শুরু হয়ে গেল। পিসি দেখলেন এযে উল্টো কেস্। পিসিও কম চালাক নয়,  গুনধরকে ডেকে বউমা হামিকে নিয়ে সোজা নার্সিংহোমে ছুটলেন - খালাস করাতে, যাবার সময় সাহসের কান মুলে বললেন -- আগে রোজগার করো ,তারপর বাবা হবে, বুঝলে?

সাহসও পিছু নিল। নার্সিংহোমে গিয়ে জানা গেল ওসব কিছু নয় বউমার হজমের রোগ - হজমের গুলি দিয়ে তাদের খালাস দিল।

তারপর থেকে সাহস রায় মিচকে প্রতিবেশীদের কাছে ঢ্যাড়শ রায় নামেই ততোধিক প্রচারিত। এরপর সারাজীবনে ও আর সন্তানের মুখ দেখা হয়নি তার। পিসি জানে তার ভয়েই এই সাফল্য, আর বউ হামি জানে আসল কথাটা -- তার সোওয়ামীর পুরুষত্বহীনতা।

সাহস রায় তো তাতেও বেজায় খুশি। আনন্দে মশগুল, আমআদমী কি বলল তাতে তার কি যায় আসে। বাজার করে দুহাতে থলে নিয়ে ফেরার পথে যখন মিচকেরা সবাই আক্রমণ করে  -- ও ঢ্যাড়সদা সব নিয়েছো?  আমরা আসছি। বৌদির কাছেই খাবো।

ঢ্যাড়স নামে যেমন, কাজেও তেমন। কিছুই যেন বোঝে না, হেসে গলে পড়ে -- হ্যাঁ, হ্যাঁ, এসো ভাইয়েরা। আমার বউ তো তোমাদের কথা কত বলে। তোমরা নাকি খুব ভাল।

ওদিকে বাজার দেখে আবার পিসির মুখ ভার হয়ে যায়,--এসব কি এনেছিস? তোর কি চোখ দুটোও নেই --সব পচা জিনিস গুলো তুলে এনেছিস? আর বেল কোথায়? আলো গুলোর চেহারা তোর আলুর থেকেও খারাপ। হায়! হায়! আমার কপাল। একটা ভাইপোও মানুষ হলো না? কোনো কর্ম্মের নয় দেখছি!

নিজের গিন্নি হামি আবার পিসি শান্তিদেবীকেই তেল মারে -- আবার পাঠান ওকে  --।

স্বামী সাহসকে আসামীর মত চোখ রাঙায়, --গুছিয়ে আনতেও পারো না ? কোন কাজটা পারো তুমি? 

আবার ছুটতে হয় বাজারে। ফিরে এসে মুদীর দোকান। তারপর ওষুধের দোকান হয়ে সকালের কেনাকাটা আপাততঃ স্থগিত হয়।

বাথরুমে ঢুকিয়ে দেয় গিন্নি। দেখে সাবান জলে ভেজনো পিসি আর বউয়ের শায়া ,ব্লাউজ ,শাড়ি ব্রা সব ধোওয়ার জন্য তার অপেক্ষা করে করে একেবারে ফেনিয়ে উঠেছে। ব্রাশ নিয়ে সব পরিস্কারকরণে লেগে পরে।   অন্যথায় দাগ থাকলে পিসি তাকেই দাগিয়ে দেবে। পরে বাড়ির সব কাজ করতে হয়। আনাজ কেটে -কুটে -ধুয়ে দিতে হয়। দু মুঠো গিলে আবার বাসন মাজা।

এতকিছু করার পর পিসিমার চোখ এড়িয়ে যদিবা সাহস তার বউয়ের ঘরে ঢোকে, বৌয়ের একটু কাছে ঘেঁষতে চেষ্টা করে, তখনই যুবতী বউ হামি হাউমাউ করে চেঁচামেচি করে পিসির নজরে দেয় ঘটনাটা, সঙ্গে তাকে ভেঙচি কেটে গায়ের জ্বালা মেটায়, -- আসল কাজ তো করার মুরোদ নেই।

চেঁচামেচি শুনে পিসি দৌড়ে এসে ঢ্যাড়সের কান ধরে টেনে নিয়ে যায় নিজের ঘরে, মুখভর্তি পান চিবাতে - চিবাতে হুকুম চালায় -- নে নে আমার পা দুটো ভাল করে টিপে দে,  যা ব্যাথা হয়েছে, জানিস না আজ একাদশী?
---------------------
সমাপ্ত।

Labels:

আমার লেখা :

Labels:

উপহার :

Labels:

গল্পঃ শান্তিবিলাশে ঢ্যাড়স

Labels:

গ্রুপে লেখাঃ

Labels:

আমার নিজের লেখা বইঃ

Labels:

বইয়ের মধ্যে ---

ছবি

সমুদ্র

স্রোত

উপহার

Labels:

ছায়ারা ~

Labels:

উপহার

Labels:

কবিতা

Labels:

কবিতা

Labels:

Sunday, 27 June 2021

ভালোবাসার গল্পঃ

#ছোটগল্পঃ
  " বেহিসাবি ভালোলাগা "
                      প্রদীপ দে ~

অনল লোকাল ট্রেনের একেবারে জানালার ধারে সিটটা পেয়েই বুঝে গেছিল দিনটা আজ তার। ধপাস করে বসে একনাগাড়ে বাইরের দিকে দৃষ্টি ছড়িয়ে দিল। হু হু করে ট্রেন চলেছে আর গাছপালা  পুকুর ঘর জঙ্গলী লতাপাতারা সামনে থেকে এসে নিমেষে পিছনে চলে যাচ্ছে। বাতাস এক ঝটকায় তার দৃষ্টিকে আবছা করে দিয়ে মাথার চুলগুলোকে একেবারে লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে। 
কত পুরোনো কথা স্মৃতিকে আঘাত করে আবার ভুলিয়ে দিচ্ছে। অনল বর্তমান কে হারিয়ে অতীতে ফিরে যাচ্ছে। অনল আধুনিক জগতের ছেলে হয়ে সেই পুরানো ছোটোবেলার যৌথ পরিবারের কথা ভুলতে পারেনি।
বালি ষ্টেশন থেকে উঠে ব্যান্ডেল ছুটে চলেছে এক বন্ধুর বাড়িতে। রবিবাসরীয় আড্ডা মারতেই। বাবা মা দেশের কাঁথির বাড়িতে থাকে।কর্মসূত্রে সে বালিতে ভাড়া ঘরে থাকে। মাসে একবার বাড়ি যায়। টাকা দিয়ে আসে। দরকারে সাহায্য করে। একই বোন থাকে ওখানে। অনলকেই বিয়ে দিতে হবে। যৌথ পরিবার ভেঙে এখন ভাগের নির্দিষ্ট জমিতে তাদের ঘর সংসার।
নানান চিন্তার মধ্যে একটা কিরকম গন্ধ নাকে এলো, মুখ ঘুরিয়ে দেখলো পাশে এসে বসেছে একটি মেয়ে। বছর পঁচিশের মতো হবে। রোগাটে চেহারায় উজ্জ্বল কালো আর মুখটা বেশ কালী ঠাকুরের মতোই। একপলক দেখার পর বার তিনেক ঘুরে দেখে অনলের তাই মনে হয়েছে। কমদামী নীল হলুদে সিল্কের শাড়িতে খুব যে খারাপ লাগছে তা নয়। তাই অনলের মনে হচ্ছে একটু দেখি না। নারীও তো প্রকৃতিরই অংশ।
অনেক্ষণতো জানালা দিয়ে সবুজ পৃথিবীর রূপ দেখলাম এবার এক অন্য অনুভূতির দিকে যাই না।

ঘন ঘন ঘুরে ঘুরে দেখা মেয়েটিকে বিব্রত করে তুললো। মেয়েটি অসুস্থার ভান করে চোখ বুজে সীটে মাথা এলিয়ে দিল। অয়ন আরো বিব্রত বোধ করলো। বুদ্ধি আর ভয়ের লোপ পেল। সাহস করে জিজ্ঞাসা করে বসলে,  --
--  কি হলো শরীর খারাপ লাগছে?

মেয়েটি চোখ খুলেই বুঁজে নিল। কোন উত্তর দিল না।
অয়ন ক্যাবলার মত চেয়ে রইলো। মনটা চিনচিন করে উঠলো। এ মেয়েতো কোন উত্তরই দেয় না। আজ অয়নের কি যে হলো? এরকম তো সে কোনদিন মেয়ে দেখে পাগলামি  করে না, বরং মেয়েদের সে এড়িয়েই চলে। কারোর মুখের দিকেও তাকানো তার রুচিতে বাঁধে। তবে আজ কি হলো?
তাও যে খুব সুন্দরী মেয়ে, এ তাও নয়।

এইসব ভাবার মধ্যেই মেয়েটি হঠাৎই চোখ মেলে দিল। কটকটে চোখে অয়নকে একপলক মেপে নিল --  বারবার ঘুরেফিরে দেখছিলেন কেন?  মেয়ে দেখা অভ্যাস? না কি আমি দেখতে কুৎসিত তাই?

অয়নের খারাপ লাগলো, --  তা কেন? আমার তো বেশ ভালোই লাগছে।

রাগী মেয়েটি অবাক হয়ে গেল। মুখটা কেমন যেন প্রসন্ন হয়ে উঠলো, --  সত্যি বলছেন না বানিয়ে মজা করছেন?

অয়ন আঙুলগুলো ঘুরিয়ে, --  যা বাব্বা সবাইকে এক ভাবলেন? আমি কোনদিন কোন মেয়ের সঙ্গে কথা বলেনি,  আজ কি জানি কি হলো, তোমাকে দেখে আমার মনে কেমন একটা টান মারলো, মনে হলো তুমি …

কালো মেয়েটি তার আরো গভীর কালো আয়ত চোখে অবাক হয়ে গেল, -- আর তুমি মানে আমি কি ...? 

--  থাকগে, ছাড়ো ওসব!  তোমার নাম বলবে?

মেয়ে তৈরী ছিল --  আমি হারানী।

--  এ আবার কি নাম? এরকম নাম কারোর হয় নাকি? হা -রা -নী  এ কি নাম ?

--  কারোর হয় কিনা জানিনা। তবে জন্মের পর পরই বাপ মা সবাইকে হারিয়েছি, তাই।

--  আমার নাম জানতে চাও না?  

--  হ্যাঁ খুউব -- হারানীর চোখে কৌতুহল।

--  আমি অয়ন। তবে আমি তোমায় শুধুই রানী বলেই ডাকবো।

-- ওহঃ তাই বুঝি! কিন্তু আমি তো একা। আমার নিজের কেউ নেই। আমি একজনের বাড়িতে থেকে কাজ করি। অসুবিধা হওয়ায় নতুন কাজের সন্ধানে যাচ্ছি।

--  যেখানে থাকো সেখানের অসুবিধা কি?

--  বৌদি খুব ভালো। দাদা বৌদিকে লুকিয়ে অসভ্যতা করে।

অয়ন চমকে ওঠে কথাগুলো শুনে আবার বড় ব্যাথা পায় - পুরুষের কীর্তিতে। কানে বাজে --  বৌদি ভালো কিন্তু দাদা ----?

--  তুমি আমার সঙ্গে যাবে?

--  তোমার বাড়িতে আর কে কে আছে?

--   এখানে কেউ নেই। সব দেশে। এখানে আমি একা।

রানীর মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আশার আলো যেন মিলেমিশে যায় তার মুখে।

-- ভয় নেই। আমার বাড়িতে কাজের লোকের দরকার নেই। তোমাকে আমি যদি ----

অয়ন থেমে যায় আর বলতে পারে না। আজ তার কি হলো? সে কি পাগলামি শুরু করে দিল সে নিজেও জানে না। তার দেশের বাড়ি বাপ মা আর এক অবিবাহিত বোন আছে যে! সকলের দায়িত্ব যে তার কাঁধে! সেতো পুরোনো দিনের ছেলে। এই নতুন। জগতের সঙ্গে তো তার কোন মিল নেই। সে তো নিজের জন্য কিছু চায় না, সে চায় যৌথ পরিবার। আজ তাহলে তার এই একার জন্য এই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা অর্থহীন। অবিবেচক মনে হয় নিজেকে। ভালোলাগা আর ভালোবাসাতো এক নয়। বিপদ হতে পারে। একেবারে বাস্তব মানা শিক্ষিত এক যুবকের ক্ষেত্রে এই বুদ্ধি অকেজো  এবং সকলের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং পাগলপন্থী। তবুও অয়নের বুদ্ধি জাগ্রত হয় না।অবিবেচকের মতোই আচরণ করে। তাহ‌লে  ভালোবাসা কি বুদ্ধিনাশ করে?

সহায় সম্বলহীন জীবনে ভেসে যাওয়া স্রোতে যে কোনো খুঁটি ধরে নেওয়ার বিকল্প থাকে না। রানীর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে আসে,  অয়নকে লুকিয়ে  শাড়ির আঁচলে চোখ মোছে। ক্ষীণ স্বরে জিজ্ঞেস করে,
-- তাহলে তুমি আমায় ………?  

দুজনায় সতর্ক হতে চাইলেও তা আর হয়ে ওঠে না।
ততোক্ষণে ট্রেন ব্যান্ডেল ষ্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ছুঁয়েছে। ওরা কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। ঘোষণা হয়ে গেছে এই ট্রেনটি আবার ফিরতি পথে হাওড়া যাবে। হারানী উঠে পড়ে নামার জন্য। অয়ন সময় নেয় না ওর হাতটা ধরে টেনে বসিয়ে দেয়। নিজের কাছে টেনে নেয়। ওর চোখে চোখ রাখে কানের কাছে মুখ নিয়ে যায়, অস্ফুটে বলে,
--  আমরা দুজনায় এখন বালি যাবো, আমার বাসায় ……

হারানী চুপ করে বসে একদৃষ্টিতে অয়নকে দেখতে থাকে। কিছুবাদে ট্রেন যাত্রীতে ভরে যায়।হুইসেল বেজে ওঠে, ট্রেন ধীরগতি থেকে জোড়ে ছোটা শুরু করে। জানালার হাওয়ায় দুজনায় এখন খুব শান্ত!
হারানী অয়নের কাঁধে মাথা ফেলে দেয়, চোখ জুড়ে আসে শান্তিতে!  💘-----------------------------------------
#অমাদীপ_প্রদীপদে

হাসিরগল্পঃ

#ছোটহাসিরগল্পঃ
   " পটীয়সী 'র পরকীয়া "
                    প্রদীপ দে ~

বেঁটে বকাই দৌড়ে এল। তখন আমরা বেশ কয়েকজন রামুর চায়ের দোকানে নড়বড়ে টেবিলটায় বসে এক হাতে চায়ের গ্লাস ধরেছি আর অন্য হাতে সিগারেট,  চায়ে চুমুক দিয়েই সিগারেটের ধোওয়া গেলার অপেক্ষায় ইন্তেজার করছি, এমন সময়েই বকাইয়ের এই আগমন এক ভয়ংকর খবর নিয়ে,  আমরা বিচলিত হয়ে পড়লাম। আমরা মানে তখন ওখানে গুলতানি মারছিলাম - লম্বু- গনেশ, ট্যারা- টুটুল, তোতলা- পুকাই, , পুচকে- সাহস, হাবলা- হরি আর আমি। আমার পরিচয় আমি ব্যাকা- বালু। আসলে এই পরিচিতি গুলো আমাদের গুলতানি সঙঘের কর্মকর্তা হিসাবে কার্যক্রম আমাদেরই করা কেরামতি আর প্রয়োগের কারুকাজ।

বেঁটে  আমাদের দেওয়া নাম। ও উচ্চতায় ছোট তাই। আসলে বকাই। হাফাচ্ছে রীতিমতো।

--  আরে বলবি তো কি হয়েছে ?

--  দাঁড়া দাঁড়া ছুটে এসেছি আগে এক গেলাস জল পেটে  ঢালি তারপর সব বলছি।
পুরো এক গাড়ু জল গিলে নিল। 

--  পটলার বউ পটলাকে পেটাচ্ছে। প্রেম করে বিয়ে করা বউ কি মার মারছে রে। মরে না যায়!

আমরা তারস্বরে চিৎকার করে উঠলাম --  সে কিরে?  এও সম্ভব? কি দিনকাল এলো রে? আগে তো আমরাই বউগুলাকে আচ্ছা কেলান কেলাতাম আর এখন কি হলো রে?  বউরাই মারছে?

সবাই দৌড়ে গেলাম পটলার বাড়ি। বিপদে বন্ধুর পাশে থাকতে হয়। এটাই নিয়ম। না হলে কিসের বন্ধু? বাড়িতে পৌঁছে দরজায় কড়া নাড়তে যাবো দেখি দরজা দুহাত করে খোলা আর সামনে হাফপ্যান্ট পড়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের মুর্ত্তিমান পটলা পটল। আমাদের দেখেই তার কি কান্না - হাউমাউ করে  
--  এসেছিস?  বাঁচা তোরা! 

কি করে বাঁচাই আর কিই বা হয়েছে?  এদিক ওদিক উঁকিঝুঁকি মারছি যদি ওর বউ পটীর দেখা পাই। 

--  এই যে সব নেশাখোরেরা এসে গেছেন দেখছি -
বলেই সুন্দরী বউ পটীয়সী  ছুটে এলেন। আমরা কে কোনজনের আড়ালে যাবো তাই ভাবছি ।সে সুযোগ পেলাম না পটী কোমড়ে কাপড় গুঁজে তেড়ে এলো। পালাবো কিনা ভাবছি -কিন্তু পালাবার পথ নাই যম আছে পিছে -- ঘুরে দেখি -- ওর মা পিছনে দাঁড়িয়ে বড় বড় চোখে চেয়ে আছে।
ওর বউয়ের অর্ডার ---
--  সব ভিতরে আসুন - কথা আছে।

ভয়ে গুটিগুটি ঘরে গেলাম। ঘর লন্ডভন্ড। একটু আগে এখানে একটা ঝড়  বয়ে গেছে দেখলেই বোঝা যায়। আমারা এদিক ওদিক দাঁড়িয়ে গেলাম।

বউ পটীয়সী  ব্যঙ্গ করে বললে -- আপনাদের বন্ধু আবার নতুন করে প্রেম-প্রেম খেলা শুরু করেছেন?
বুঝলেন?  বুঝলেন কিছু?

লম্বু গনেশের কিছু সাহস ছিল সেই উত্তর দিল -- 
--  সে কি?  এ কেমন কথা?  ঘরে এত সুন্দর বউ থাকতে এমনটা কেউ করে?

বউদির মুখ লাল হয়ে গেল। মানে কাজ হলো
--  বসুন না গনাদা।

আমরা সকলে মিলেই লম্বু গনেশকে নকল করলাম। বৌদি পটীয়সীর খ্যাতি করলাম। তোতলা   পুকাই আবার এক কদম এগিয়ে পটলকে টেনে আনলো ঘরের ভিতর। তোতলানো সুরে বলার চেষ্টা করলো --
--  তু তু তু -ই এ এ এ এ -ম -অন কেন কেন কে নো ক কো কোরলি?
পুচকে সাহস দৌড়ে গেল। পুকাইকে
ঠেলে সরিয়ে দিল । বৌদির কাছে সাহস দেখিয়ে পটলার গালে চড় মারার মত আঙুল নিয়ে গেল আর চিল্লালো --
--   দেবো না ঠাটিয়ে একটা?

হাবলা হরিও কম গেল না -- দে দে ওকে?  ও কি বন্ধু হতে পারে?

পটলার বউ পটীয়সী রে রে করে উঠলো। 
--  থাক থাক খুব হয়েছে। 

বেঁটে বকাই আর সাহস করে এগালো না।

বৌদি দেখলাম একমাত্র লম্বু গনেশকেই কেমন যেন পাত্তা দিল। হেসে হেসে বললে --
-- চা খাবেন গনেশ বাবু?

হয়ে গেল আমাদের! আমরা বাকীরা সব হলাম কাবু। গনেশ কায়দা করে পটল কে নিয়ে বেড়োতে চাইলো।  বৌদিও রাজি হয়ে গেল। আমরা পটলা কে বাইরে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। আমার কেমন যেন মনে হলো বৌদির চোখে লম্বুর নেশা!

বাইরে বেড়িয়ে সকলে মিলেই পেটুক পটলাকে নিয়ে পড়লাম। 
-- দ্যাখ কেমন বুদ্ধি খেলালাম। তোকে ভয় দেখিয়ে  বৌদিকে বোকা বানালাম। পেটুক হেসে ফেললে -- তোরা তাই না আমার বন্ধু? এখন খুব খিদে লেগেছে চল কিছু পেটে দিই।

সব্বাই আমাদের রামহরির চায়ের ঠেকে গিয়ে নাস্তা বানালাম। খরচা পেটুক পটলা একাই বিল দিয়ে দিল।

এরকম ভাবেই আমরা চলছি। ভাবলাম পটলার পরকীয়ার ঘোর বুঝিবা কেটে গেছে। সপ্তাহ কাটলো না খবর এসে গেল আবার মারামারি। পটীয়সী পটলাকে মেরে চোখ ফুলিয়ে দিয়েছে। কি করা যায়?  চায়ের দোকানের মালিক পথ বাতলে দিল -ও সব জানতো -আমরা যে সব আলোচনা ওখানেই সারি।  রামহরি বললে -- 
--  আপনাগো গিয়ে কাম নাই। এক কাম সারেন ওই লম্বুটারে ওহানে পাঠায়ে দেন -ওরে খাতির করে পটী।

একদমই ঠিক কথা। ভেবে বলেছেন। আমরা ভাবতেও পারিনি। লম্বু গনেশেরেই ধরলাম। ও কিছুতেই যাবে না। অনেক বুঝিয়ে রাজী করালাম।

গনেশ ঘুরে এসে জানালো পটলের স্বভাব খারাপ।
কচি মেয়ে দেখলেই পটানোর ধান্ধা করে। এবারে ও ম্যানেজ করেছে। পটলা নাক-কান খৎ দিয়েছে।
বলেছে আর করবে না।

অবাক কান্ড আবার পটলা পাড়ার এক মাসিকে নিয়ে লটরপটরে জড়িয়ে পড়লো। কি ঝামেলা?
আবার গনেশের হাতে পায়ে ধরে পাঠালাম। বউয়ের হাতে বন্ধু মার খাবে এটা দেখা যায়?
তবে পটলাকে বলে দিলাম -- 
--  এই কিন্তু  শেষবার।

গনেশ পটীয়সী কে বোঝাচ্ছে -
--  এইবার ওকে শেষবারের মত ছাড় দিন । ও কথা দিয়েছে, কোনোদিন এরকম করবে না।

বৌ পটীয়সী গনেশকে পছন্দ করায় রাজী হয়ে গেল। তবে এক‌টি শর্তে। --
--  আর একবার খবর হলেই আমি সুযোগ পেয়ে যাবো আর আমিও দেখিয়ে দেবো পরকীয়া কাকে বলে!

পটলা রাজী হয়ে গেল। আর গনশা বেশ ফুরফুরে মেজাজে পাড়ার হিরো হয়ে গেল। দেখলাম মাঞ্জা দেওয়া  রঙিন পাঞ্জাবি গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর মহিলাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে গেছে। পটলাকে দেখলেই গালি মারছে।

বেশিদিন গেল না পেটুক পটলা খবর হয়ে গেল। পাশের পাড়ার রামকানাইয়ের মেয়ের হাতির হাতে জুতোপেটা খাচ্ছে। স্পাই মারফত  বউ পটীয়সীর কাছে খবরও চলে যেতে সময় নিল না। আমরা সবাই ভাবছি কি হয়? -কি হয়? লম্বু গনশার খবর নেই। যদিও ও আর যাবে না। তবুও সব্বাই ওকে চাইছি।  না সারাদিন কেটে গেল রাত দশটা বেজে যেতেই আমরা যে যার বাড়ির দিকে পা বাড়াচ্ছি - এমন সময় পটলা দৌড়ে এলো --
--  বিপদ হয়ে গেছে ভাই। আমার বউ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

সবাই তারস্বরে চিৎকার করে উঠলাম। --
--  সে কি রে?  কিন্তু  কোথায় গেছে জানিস?

পেটুক পটলা কাঁদছে --
--  না তা জানিনা। তবে একটা  চিঠি লিখে রেখে গেছে। এখন বালিশের তলা থেকে পেলাম।

--  সে কি রে?  পড়, আগে পড় শুনি।

-- হ্যাঁ। পড়ছি --লিখেছে -- 
-- " বলেছিলাম না পরকীয়া কাকে বলে দেখিয়ে ছাড়বো - এবার দ্যাখো কেমন লাগে --আমি তোমারই বন্ধু লম্বু গনশাদাকে নিয়ে ভাগলাম। পারলে কিছু করো। আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসি - ছেড়ে থাকতে পারছি না --তাই তোমাকেই ছেড়ে চলে গেলাম। খোঁজ করে লাভ নেই, আমরা স্বেচ্ছায় পালালাম। পরে সুবিধা মতো  তোমার কাছে উকিলের নোটিশ পাঠাবো আর খোরপোশ সহ সব পাওনাগন্ডা আদায় করে তবে আমি তোমায় ছাড়বো -এই বলে রাখলুম তোমায়।
          -- ইতি , -- তোমার নয়, এখন আমি গনশার পটীয়সী।
~~~~~
#অমাদীপ_প্রদীপদে

কবিতা :

২৮-০৬-২১
#কবিতাঃ
    " মক্ষিরানী "
           প্রদীপ দে

রাতে জোছনা এসে
তার সাদা চাদরে মুড়ে দেয়
পাশে রঙে রঙিন তোমায় খুঁজি
পাই না তাই চাঁদ দেখে মুচকি হাসে
গভীরতায় ডুবে থাকা রাত হয় উজ্জ্বল ঝলমলে 
রঙ মেখে ব্যস্ত তুমি মক্ষিরানী হয়ে রঙ বিলাও যে…

#অমাদীপ_প্রদীপদে

Labels:

প্রারম্ভিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

Labels: